মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৯ নভেম্বর ২০১৭

হাইড্রলিক রিসার্চ পরিদপ্তর

হাইড্রলিক রিসার্চ পরিদপ্তর

হাইড্রলিক রিসার্চ পরিদপ্তরের অধীনে ৩টি বিভাগ রয়েছে।

(১) রিভার এন্ড কোষ্টাল হাইড্রলিক বিভাগঃ এই বিভাগের মাধ্যমে নদী প্রশিক্ষণ, নদী ভাঙ্গণরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী কৌশল, নদীর পলল নিয়ন্ত্রণ, নদীর মোহনা ও জোয়ার ভাটা সম্পর্কিত গবেষণা কাজে ভৌত মডেলের মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। ভৌত মডেলে নদীর বিভিন্ন প্রসেসসমূহ বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় এবং বিভিন্ন হাইড্রলিক স্ট্রাকচারের কার্যকারিতা নির্ণয় করা যায়।

(২) হাইড্রলিক স্ট্রাকচার এন্ড ইরিগেশন বিভাগঃ এই বিভাগের মাধ্যমে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কিত বিভিন্ন কাঠামো যেমন ব্রীজ, ব্যারেজ, স্লুইস, কালভার্ট, গ্রোয়েন, রিভেটমেন্ট ইত্যাদির প্রকৃত স্থান নির্ধারণসহ নকশা কাজে প্রয়োজনীয় প্যারামিটার যাচাইয়ের জন্য ভৌত মডেলের মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়।

(৩) ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং বিভাগঃ এই বিভাগের উপর পানি সম্পদ উন্নয়নের জন্য নদীর পানি প্রবাহ এবং পানি বিভাজন এলাকা, পানি বিজ্ঞান, ভূ-পরিস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার এবং পরিবেশগত বিষয়াদি বিশেষতঃ লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ এবং পানির গুণাগুণ সম্পর্কে সমীক্ষা পরিচালনা করার দায়িত্ব প্রদান করা আছে।

ভৌত মডেলঃ

  • ভৌত মডেল খুবই কার্যকরী একটি টুল যা কিনা হ্রাসপ্রাপ্ত স্কেলে নদীর হাইড্রো-মরফোলজির প্রাকৃতিক ঘটনা প্রবাহ অনুকরনের মাধ্যমে যে কোন প্রকৌশলগত কাঠামোর কার্যকারীতা মূল্যায়নে সুনিশ্চিতভাবে ব্যবহার করা যায়। এই টুলের মাধ্যমে নদী তীরের ভাঙ্গন ও পলিকরন সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়াদি সমূহ নিরুপন, নির্বাচন ইত্যাদি পর্যবেক্ষন করা হয়।
  • ভৌত মডেলের মাধ্যমে লোকাল স্কাওয়ার, ত্রিমাত্রিক ঘটনা প্রবাহ, নদীর আকৃতি বা প্রকৃতিগত প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন ইত্যাদি ভালোভাবে অনুকরন করা সম্ভব।
  • গুরুত্বপূর্ণ ডিজাইন প্যারামিটার যেমন- সেতু স্তম্ভ, এবাটমেন্ট এর সন্নিকটস্থ ক্ষয়, প্রবাহ ক্ষেত্র, সর্বোচ্চ গতিবেগ, জল স্থাপনা সমূহের দৈর্ঘ্য, ব্যবধান, অবস্থান ও ওরিয়েন্টেশন ইত্যাদি ভৌত মডেলের মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভবপর হয়।
  • নদীর আকৃতি বা প্রকৃতিগত প্রক্রিয়া যা গাণিতিক প্রকাশ বা প্রায়োগিক সূত্রের মাধ্যমে, বর্ণনাতীত তা অতিসহজেই ভৌত মডেলের মাধ্যমে সূক্ষ ও যথার্থতার সাথে অনুকরন করা সম্ভব।

ভৌত মডেলের প্রয়োজনীয়তা

সাধারণত মডেল দু’টি কারনে প্রয়োজন হয়। এক নদীর ভবিষ্যত আচরণ নিরুপন ও দুই নদীর সামগ্রীক প্রকৃতিগত প্রক্রিয়া অনুধাবনের জন্য। সেতু নির্মাণ ও নদী শাসনের সময়, নদী শাসন কাজের ভবিষ্যত রক্ষনাবেক্ষনে উদ্ভুত জল চরিত্র ও নদীর প্রকৃতিগত পরিবর্তনের জটিল সমস্যাসমূহ সমাধানে ভৌত মডেল ব্যবহার করা যায়।

নিম্নলিখিত কারনে ভৌত মডেল প্রয়োজনঃ

  • নদীর বিদ্যমান অবস্থা অনুধাবনের জন্য
  • যথোপযুক্ত নদী শাসন কাজ বাছাই/নির্ধারনে করা
  • নদীতে বিদ্যমান প্রবাহের ধরন ও নদীর গতি-প্রকৃতির উপর জল স্থাপনা সমূহের প্রভাব নিরুপন।
  • প্রস্তাবিত বিভিন্ন কাজের কার্যকারিতা নিরুপনের জন্য
  • জল স্থাপনা সমূহের যথোপযুক্ত নকশা-উপাত্ত নির্ণয়ের কাজে
  • নদীর বিদ্যমান গতি প্রকৃতি ও প্রবাহ-ব্যবস্থার ভবিষ্যত পরিবর্তন অনুমান করা
  • নির্ভরযোগ্য ফলাফল লাভের প্রয়োজনে।

ভৌত মডেলের প্রায়োগিক ক্ষেত্রসমূহঃ                                

  • নদী  শাসন
  • নদী তীর রক্ষা ও স্থিতিশীল করন
  • নদী পলল
  • বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  • সেচ ও পানি নিষ্কাশন
  • নাব্যতা   
  • ব্রীজ হাইড্রলিক্স
  • নদীর আকৃতি প্রকৃতি
  • নদীর তলদেশ রক্ষা
  • সমুদ্রতীর রক্ষা
  • সৈকত রক্ষনাবেক্ষন

গাণিতিক মডেলঃ

বিভিন্ন পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের সমস্যা সংক্রান্ত কাজে গাণিতিক মডেল ভৌত মডেলের পরিপূরক হিসেবে প্রকৌশলগত বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। নগই বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে ২০০৭ সালে এসআইসিটি (সাপোর্ট টু কমিউনিকেশন এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলোজি) প্রকল্পের আওতায় গাণিতিক মডেলের জন্য প্রয়োজনীয়তা হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার গ্রহণ করে আশা করা যায়। নগই পানি সম্পদ সেক্টর ও এ সম্পর্কিত অন্যান্য সেক্টরের নানাবিধ প্রকল্প সমূহকে ব্যয়সাশ্রয়ী ও টেকসই করতে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করবে। উল্লেখ্য, নগই এ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সেচ প্রকল্প  (সাউথ ইউনিট) এর বিস্তারিত নকশা প্রনয়ন সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে হাইড্রলিক্যাল ও মরফলজিক্যাল স্ট্যাডির কাজ সফলতার সহিত সম্পন্ন করেছে।


Share with :
Facebook Facebook